মধ্যনগরে গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধর, বেত্রাঘাত
- আপলোড সময় : ১৬-০৩-২০২৫ ১২:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৬-০৩-২০২৫ ১২:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন

ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
মধ্যনগর উপজেলার গড়াকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেন (৩২) কে কিল ঘুষি, চড়-লাথি ও এলোপাতাড়ি বেত্রাঘাত করে আহত করা হয়েছে। ওই গ্রাম পুলিশের মোটরসাইকেলটি চেয়ে না পেয়ে স্থানীয় চারজন ব্যক্তি শনিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চান্দালীপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই গ্রাম পুলিশ সদস্যকে পাশের নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও আহত ওই গ্রাম পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের গড়াকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও ২নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেন (৩২)। ওই গ্রাম পুলিশের চাকরির পাশাপাশি সংসারের খরচ মেটাতে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
গ্রামপুলিশ সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেনের স্বজনদের অভিযোগ থেকে জানাযায়, একই ইউনিয়নের দোলাশিয়া গ্রামের বজলু মিয়া (৪০), চান্দালীপাড়া গ্রামের লালন মিয়া (৩০), হামিদপুর গ্রামের জামাল মিয়া (৪০) ও পাশের নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার বিশেরপাশা বাজারের বাসিন্দা দেলোয়ার মিয়া (২০) মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। গত শনিবার (৮ মার্চ) রাত ১০টার বজলু মিয়া ওই গ্রাম পুলিশের মোটরসাইকেল যোগে মহিষখলা বাজারে যাওয়ার জন্য বললে সাদ্দাম হোসেন এতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় গ্রাম পুলিশের সঙ্গে বজলুর কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সাদ্দামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও সাদ্দামকে হুমকি দিয়ে বজলু সেখান থেকে চলে যায়। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চান্দালীপাড়া গ্রামের রোজিনা আক্তার (২৪) গ্রাম পুলিশ সাদ্দামকে কল করে জানায় যে, ভোটার আইডি কার্ডের ছবি তোলার জন্য মোটরসাইকেল করে তাঁকে মহিষখলা নিয়ে যেতে বলে। পরে সকাল ১১টার দিকে ওই গ্রাম পুলিশ মেয়েটির বাড়িতে গেলে তাকে রোজিনাদের বসতঘরের ভেতরে পেয়ে বজলু লালন, জামাল ও দেলোয়ার তাকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি, চড়-লাথি ও বেত্রাঘাত করে। এক পর্যায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার দিলে, তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সে রক্ষা পায়। ওইদিন বেলা ১২টার দিকে তাকে পাশের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমাকে মারধর করার ঘটনায় জড়িত বজলু লালন, জামাল ও দেলোয়ার এই চারজনই মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। আমার মাথাডা অহনও ভার ভার লাগতাছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ব্যথা লাগছে। বিষয়টি থানার এসআই আসাদুল ইসলাম স্যারকে আমি জানিয়েছি। এ ঘটনায় আমি জড়িতদের শাস্তি চাই।
অভিযুক্ত বজলু মিয়া দাবি করেন আমরা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত নই। গ্রাম পুলিশ সাদ্দাম হোসেনের চরিত্রে কিছুটা সমস্যা আছে। তাই তাকে আমরা একটু শাসন করেছি।
মধ্যনগর থানার এসআই আসাদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, ঘটনাটি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখব।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ